February 14, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষভাবে পরিচালিত বলে প্রাথমিক মূল্যায়ন দিয়েছে European Union Election Observation Mission (ইইউ ইওএম)। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য Tomas Zdechovsky এবং প্রধান পর্যবেক্ষক Ivars Ijabs এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তারা বলেন, ২০০৮ সালের পর এটাই প্রথম বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ইভারস ইজাবস বলেন, নির্বাচন ছিল প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক এবং বহুমাত্রিক। নাগরিকদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন সংস্কার পর্বের পথ সুগম করেছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার প্রশংসা করে বলেন, কমিশন অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ড রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কিছু উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে ভ্রান্ত তথ্যের বিস্তার, সহিংসতার আশঙ্কা এবং নারীদের জন্য সংকীর্ণ রাজনৈতিক পরিসর গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। নারী প্রার্থী ছিল মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ শতাংশ, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির প্রতিফলন বলে মনে করছে মিশন। পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব, বৈষম্য ও ডিজিটাল হয়রানি নারীদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মিশন জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করে জানুয়ারির মাঝামাঝি ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন দিবসে ইউরোপ ও কানাডা থেকে আগত ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে ২০০-র বেশি সদস্যের দল গঠন করা হয়। তারা দেশজুড়ে ১,৮০৫টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ভোট গণনা ও ফলাফল ট্যাবুলেশন পর্যবেক্ষণ করেন।

আইনি কাঠামো সম্পর্কে মিশনের মূল্যায়ন—সংশোধিত নির্বাচন আইন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তি জোরদার করেছে। প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী ভোটার ডাক ভোটের সুযোগ পেয়েছেন এবং ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনী কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে কঠোর প্রচার বিধি সমানভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সহিংসতা প্রসঙ্গে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারির শুরুতে ২৭ জেলায় অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যাতে প্রায় ২০০ জন হতাহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভাইরাল ভ্রান্ত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকাররা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ—এ প্রসঙ্গে টমাস জেডেচোভস্কি বলেন, কেবল শতাংশ নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার উপস্থিতি ওঠানামা করে, তবে কোনো গোষ্ঠী যাতে বাদ না পড়ে, সেটিই আসল বিবেচ্য বিষয়। নির্দিষ্ট আসনে কারচুপি বা ব্যালট ভরাটের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরাসরি এমন প্রমাণ তাদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ থাকলে তা আইনগত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।

মিশন আরও জানায়, তারা নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং প্রায় দুই মাস পর সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে; এখন নতুন সংসদ ও সরকারের দায়িত্ব হবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

Scroll to Top