March 12, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করুক সেটিই আমাদের প্রত্যাশা— ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করুক সেটিই আমাদের প্রত্যাশা— ডা. শফিকুর রহমান

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করে— সেটিই বিরোধীদলের প্রত্যাশা।

বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে তাঁর সভাপতিত্বে বিরোধীদলের সংসদীয় দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিং করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিরোধীদলের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দেশ ও জাতির জন্য বিরোধীদল হিসেবে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের করণীয় নিয়ে সভায় খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। বিরোধীদল হিসেবে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চাই।”

তিনি বলেন, বিরোধীদল সব বিষয়ে অকারণ বিরোধিতা করবে না, আবার না বুঝে সহযোগিতাও করবে না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সে ক্ষেত্রে বিরোধীদল সমর্থন ও সহযোগিতা দেবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়— এমন কোনো সিদ্ধান্ত হলে বিরোধীদল তার দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধনের সুযোগ দেব এবং পরামর্শ দেব। তাতেও কাজ না হলে প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে জনগণের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই জাতির জন্য উত্তম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন এবং বিরোধীদলকে যথেষ্ট সুযোগ দেবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলন সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের সংগ্রাম, নির্যাতন, গুম-খুন ও কারাবরণের মতো নানা কষ্টের বিনিময়ে এ পরিবর্তন এসেছে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের মতোই ২০২৪ সালও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদ গঠনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে এবং দুটি নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। এজন্যই একই অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে তারা প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি দলের সদস্যরা প্রথম শপথটি গ্রহণ করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং তাদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণভোটে উত্থাপিত চারটি বিষয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধীদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। সহযোগিতা করলে তা হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে, আর বিরোধিতা করলে সেটিও হবে জনগণের অধিকারের পক্ষে। প্রয়োজনে সংসদের ভেতরে এবং রাজপথেও আমরা লড়াই করব— এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি প্রথম তারাই তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংসদের মাধ্যমে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। বিদেশে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ দেশে আনার ব্যয় সরকার বহন করবে— এ দাবিতে সরকারের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে এবং দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।

Scroll to Top