ডেস্ক রিপোর্টঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটকে জাতির জীবনের এক ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎনির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। ভাষণের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বলেন, জনগণের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি নিয়মিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণের সাংবিধানিক প্রকাশ। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান। তবে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকও প্রকাশ করেন।
তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে না পারা প্রজন্ম এবার প্রকৃত অর্থে তাদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। নারীদের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যন্ত অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য নতুন সূচনা। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি ভোট শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, দীর্ঘ নীরবতার জবাবও দিতে পারে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা, বডি-ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি ও কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করতে। প্রয়োজনে নির্বাচনবন্ধু হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
জুলাই জাতীয় সনদকে তিনি জাতির ভবিষ্যৎ পথচলার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংস্কার দিকনির্দেশনায় মতামত জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভোটের প্রভাব বহু প্রজন্মজুড়ে থাকবে।
ভাষণের শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনার ভোটেই রচিত হবে আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।”











